০২ সেপ্টেম্বর

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর: অধ্যায়-১

প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যায়-১ থেকে সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।

# সীমা ও সাবরিনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। সীমা পড়াশোনা করছেন প্রাণিজগতের সদস্য হিসেবে মানুষের উত্পত্তি ও ক্রমবিকাশ নিয়ে। একইভাবে মানুষের সংস্কৃতি নিয়েও তাকে অধ্যয়ন করতে হয়। অন্যদিকে সাবরিনার পঠিত বিষয় পরিবর্তনশীল সমাজ ও সামাজিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয়। দুজনের পঠিত বিষয় ভিন্ন, তবুও তাঁরা পড়াশোনার নানা বিষয় নিয়ে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করেন।
প্রশ্ন: ক. সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে ডুর্খেইমের সংজ্ঞাটি লেখো।
খ. সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান—ব্যাখ্যা করো।
গ. সাবরিনার অধ্যয়নকৃত বিষয়ের প্রকৃতি তুলে ধরো।
ঘ. সীমা ও সাবরিনার পঠিত বিষয়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান—কথাটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ক

সমাজবিজ্ঞান হলো অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান।
উত্তর: খ.

সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান বলা হয়। কারণ সমাজবিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয়ই হলো সমাজ তথা সামাজিক সম্পর্ক। সমাজবদ্ধভাবে বাস করতে গিয়ে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্ক, ব্যক্তির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক প্রভৃতি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কই সমাজের ভিত্তি। এ সম্পর্ক জানা গেলেই সমাজকে জানা যাবে। সমাজবিজ্ঞান মূলত এ সম্পর্ক নিয়েই আলোচনা করে। তাই সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান বলা হয়।
উত্তর: গ.

সাবরিনা সমাজবিজ্ঞান নিয়ে অধ্যয়ন করে। সমাজবিজ্ঞান সামাজিক বিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত। তাই এটি সমাজবদ্ধ মানুষের আচার-আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। এ অধ্যয়নের জন্য সমাজবিজ্ঞান অবশ্যই নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করে জ্ঞান আহরণ করে। তাই সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত। সমাজবিজ্ঞানের অধ্যয়ন বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যয়ন। একইভাবে জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান মূল্যবোধের বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকে বিধায় এটি মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান। কেননা সমাজবিজ্ঞান মূলত কোনো বিষয় বা ঘটনার কার্যকারণ অনুসন্ধান করে। এটি ভালো না খারাপ, উচিত কি অনুচিত, কাঙ্ক্ষিত কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত এসব বিষয়ে কোনো মতামত দেয় না। একই কারণে সমাজবিজ্ঞান বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞানও বটে।
সমাজবিজ্ঞান মূলত সমাজ-সম্পর্কিত পাঠ। একই সঙ্গে সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক তথা সব দিক আলোচনা করে বলে একে সামগ্রিক পাঠও বলা হয়ে থাকে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে সমাজবিজ্ঞানের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।
উত্তর: ঘ.

সীমার পঠিত বিষয় হলো নৃবিজ্ঞান আর সাবরিনার পঠিত বিষয় হলো সমাজবিজ্ঞান। সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান জ্ঞানের আলাদা শাখা হলেও বিজ্ঞান দুটির মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। অনেকে এ দুটি বিজ্ঞানকে জমজ বোন হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।
সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান উভয়েই সামাজিক বিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত। সামাজিক বিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত হওয়ায় উভয় বিজ্ঞানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকাই স্বাভাবিক। উভয় বিজ্ঞানই মানব আচরণ সম্পর্কিত পাঠ বা অধ্যয়ন। তাই সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যেও যথেষ্ট মিল রয়েছে। সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের মৌলিক আলোচ্য বিষয় হলো মানব সংস্কৃতি। সামাজিক নৃবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে আদিম সমাজ ব্যবস্থা, পরিবার ও বিবাহ, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উত্পত্তি ও বিবর্তন প্রভৃতি অন্যতম। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের উক্ত আলোচ্য বিষয় সমাজবিজ্ঞানেরও পরিধিভুক্ত। অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন জ্ঞান ও সিদ্ধান্ত নৃবিজ্ঞানীদের সহায়তা করে, আবার একইভাবে নৃবিজ্ঞানীদের নানা সিদ্ধান্তও সমাজবিজ্ঞানীদের সাহায্য করে। এদিক থেকে একে অপরের পরিপূরক।
জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রেও সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের মধ্যে মিল রয়েছে। পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি, ঘটনা অনুসন্ধান পদ্ধতি, নৃতাত্ত্বিক পদ্ধতি, তুলনামূলক পদ্ধতি প্রভৃতি সমাজবিজ্ঞানে যেমন ব্যবহূত হয়, তেমনি নৃবিজ্ঞানেও ব্যবহূত হয়। এদিক থেকে দুটি বিজ্ঞানই মৌলিক বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃত। অন্যদিকে উভয় বিজ্ঞানই সমাজ ও সভ্যতার উত্পত্তি, ক্রমবিকাশ ও কার্যকারণ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ থেকে জ্ঞান আহরণ করে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান যে সীমা ও সাবরিনার পঠিত বিষয়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।
প্রভাষক, এনায়েতবাজার মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম

Leave a Comment