০৩ সেপ্টে.

‘ইন্টারনেট সপ্তাহ’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের এক কোটি মানুষকে ইন্টারনেট এবং এর সুবিধা সম্পর্কে জানানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এর আয়োজকেরা। সারা দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়াতে এবং দেশীয় ইন্টারনেট-ভিত্তিক পণ্য ও সেবার প্রসারে  ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সাত দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইন্টারনেট সপ্তাহ-২০১৫।’ ইন্টারনেট সপ্তাহের আয়োজক বেসিস, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ এবং গ্রামীণফোন। ঢাকা, রাজশাহী, সিলেটে বড় তিনটি মেলাসহ দেশের ৪৮৭টি উপজেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হবে এই ইন্টারনেট উৎসব।

আজ রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের রাস্তায় (মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ) ‘স্ট্রিট পেইন্টিং’ কর্মসূচির মাধ্যমে ইন্টারনেট সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করছে আয়োজকেরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ ছাড়াও বেসিসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইকের আহ্বায়ক রাসেল টি আহমেদসহ গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

ইন্টারনেট উইকের এক কোটি লক্ষ্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনলাইন-অফলাইন সব মিলিয়ে, নানা উদ্যোগ আর কর্মসূচির মাধ্যমে এক কোটি মানুষকে ইন্টারনেটের সুফল সম্পর্কে জানাতে সম্মিলিত এই উদ্যোগ। একেবারে প্রান্তিক মানুষ যাঁরা ইন্টারনেট বোঝেন না, তাঁদের কাছে ইন্টারনেটের ধারণা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকেও এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আমরা এক কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব।’ তিনি বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই উৎসবের আয়োজন করবেন। উদ্যোগ আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

গ্রামীণফোনের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, ইন্টারনেট সপ্তাহ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে গ্রামীণফোন। গ্রামীণফোনের লক্ষ্য সবার জন্য ইন্টারনেট-সেবা নিশ্চিত করা। প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট সপ্তাহ পালন করে আমরা কমপক্ষে এক কোটি মানুষকে ইন্টারনেট-সেবার সুবিধাগুলো সম্পর্কে জানাতে চাই। সরকার এবং বেসিসের সঙ্গে গ্রামীণফোনের সব কর্মী একসঙ্গে আয়োজনে সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যাঁরা ইন্টারনেট সম্পর্কে এখনো জানেন না তাঁদের কাছে পৌঁছাতে পারব।

তিনি বলেন, ভয়েস সেবায় সফলতার পাশাপাশি গ্রামীণফোন এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ইন্টারনেট–সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর। সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে  গ্রামীণফোনের সব গ্রাহকের কাছে ইন্টারনেট–সেবা পৌঁছানোর জন্য এর মধ্যেই আমরা একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। গ্রামীণফোনের ৫ কোটি ৩০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে বর্তমানে দেড় কোটি গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। ইন্টারনেট ব্যবহার উপযোগী হ্যান্ডসেটের দাম কমিয়ে আনতেও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে। মানুষকে সচেতন করতেই মূলত গ্রামীণফোন ইন্টারনেট সপ্তাহ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

বেসিসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাসেল টি আহমেদ জানান, ইন্টারনেটের প্রসার বাড়াতেই এই উদ্যোগ। ইন্টারনেট প্রসারের জন্য দরকার ইন্টারনেটের সাশ্রয়ী দাম, ভালো অবকাঠামো ও ভালো কনটেন্ট। আমরা ভালো কনটেন্ট নিয়ে প্রচার-প্রসারে কাজ করছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এই উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে যাতে তারা নিজেদের কনটেন্ট প্রচারের সুযোগ পায়। সাধারণ মানুষকে ইন্টারনেট ও এর সেবাগুলো সম্পর্কে জানানো হবে। এ পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট নিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আয়োজনের যে সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে এক কোটির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।

Leave a Comment